
#পর্ব_১
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
- ছাড়েন।আর কতক্ষণ।
- না হইলে কি করতাম।
রমিজ মিয়া তার স্ত্রীর সাথে যখন বিছানায় মেতে ছিলেন। তখনি কারো চিৎকারে পুরো বাড়ি গরম হয়ে যায়। রমিজ মিয়া বউয়ের উপর থেকে উঠে লুঙ্গি নামিয়ে নেয়। এরপর দৌড়ে বের হয় বাহিরে। রমিজ মিয়ার বউ নিজেও শাড়ি ঠিক করে বেরিয়ে আসে। উনারা বের হতে হতে বাড়ির আরো লোকজনও বের হয়। সবাই নিজেদের সাথে নিজেরা বলাবলি করছে। কার চিৎকার হতে পারে তা।
আচমকা একটা ছেলে বলে," চিৎকার তো ইমাম সাহেবের মত শুনাইছে"। ছেলেটার কথা শুনে সবার মাথায় এতক্ষণে এলো যে,ইমাম সাহেব এখন আযান দিতে আসার কথা।বাড়ির সবাই দৌড়ে যায় মসজিদের সামনে( মসজিদ বাড়ির সামনেই)। মসজিদের সামনে আসতেই সবাই দেখে,ইমাম সাহেব অচেতন অবস্থায় শুয়ে আছেন মাটিতে। এবং সবচেয়ে বড় কথা,মসজিদের সামনে একটা লাশের খাটিয়া ( যে পালকি করে কবরে লাশ নেওয়া হয়) । তবে পুরো খাটিয়ার উপরে একটা কালো চাদর দেওয়া। এতে বুঝা যায়না ভিতরে কি আছে। এতো রাতে হুজুর লাশের খাটিয়া নিয়ে কি করছিলেন,সেটা সবার মাথায় প্রশ্ন ঢুকে যায়। তার উপর হুজুর জ্ঞান হারিয়ে কেন পড়ে আছে। ভাবনার মাঝে আচমকা নড়ে উঠে লাশের খাটিয়া। এমন দৃশ্য দেখে পুরো বাড়ির মানুষ চমকে উঠে। লাশের খাটিয়া নড়ার কারণ কি,ভিতরে কেও আছে? তাছাড়া এলাকায় তো কেও মারাও যায়নি। এই খাটিয়া এখানে কিভাবে। সবার মধ্যে রমিজ মিয়া এগিয়ে যায়। দেখতে চায় খাটিয়াতে কি আছে। রমিজ মিয়াকে এগিয়ে যেতে দেখে আরো দুইটা লোক সাথে আসে।রমিজ মিয়া লাশের খাটিয়ার কাছে গিয়ে,যখনি কালো কাপড়টা সরান। দেখতে পান, একটা লাশ কাফনে মোড়ানো সেখানে। খাটিয়াতে লাশ থাকাটা অস্বাভাবিক কিছু না। কিন্তু এইভাবে এই পরিস্থিতিতে লাশ থাকাটা অস্বাভাবিক। রমিজ মিয়া হুট করে আবার পর্দা ঢেকে দিয়ে পিছনে চলে আসে।
এদিকে কয়েকজন লোক যেয়ে ইমাম সাহেবের জ্ঞান ফিরিয়ে আনে।ইমাম সাহেব উঠেই বলে," তাড়াতাড়ি সিদ্দিক সাহেবকে ডেকে আনেন কেও। এইটা একটা জ্বীনের লাশ"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে বাড়ির লোকজন একটা চিৎকার মারে। মহিলারা দৌড়ে চলে যায় বাড়ির সামনে। উপস্থিত শুধু রমিজ মিয়া আর কিছু লোক। সিদ্দিক সাহেব হচ্ছেন কবিরাজ। জ্বীন ভুত নিয়ে উনার অভিজ্ঞতা ভালো। রমিজ মিয়া সিদ্দিক সাহেবকে খবর পাঠান। বাড়ির কয়েকটা ছেলে গিয়ে,উনাকে ডেকে নিয়ে আসেন। সিদ্দিক সাহেব লাশের সামনে এসে ইমাম সাহেবকে বলে," হয়েছে কি"। সিদ্দিক সাহেবের কথায় ইমাম সাহেব বললেন," হুজুর। আমি ফজরের আযান দেওয়ার জন্য মসজিদে আসি। অজু করার জন্য পুকুরের দিকে যেতে চাচ্ছিলাম,তখনি কবরস্থান থেকে কারো কথাবার্তার শব্দ শুনি আমি। পুকুর থেকে উঠে আমি যখন কবরস্থানের পাশে যাই,তখন দেখি সাদা পাঞ্জাবি পরিহিত কিছু লোক কবরস্থানের মাঝে। আমার বুঝতে বাকি রয়নি এরা কারা। কিন্তু বুঝার আগে একজন আমার পিছন থেকে বলে," আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম। ওর জানাযা পড়িয়ে দিন"। আওয়াজটা শুনে আমি পিছনে তাকাই,আর দেখি একটা লোক। সারা গায়ে সাদা পাঞ্জাবি। মুখটা ধবধবে সাদা। একটা সাদা আলো বের হচ্ছিলো উনার দেহ থেকো। চোখ দুইটাই ভয়ংকর রকমের সাদা। লাইটের আলোর মত জ্বলছে। এই দৃশ্য দেখে আমি নিজেকে সামলাতে পারিনি।জ্ঞান হারাই"।
ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ সেই খাটিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।
চলবে......
গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া
#পর্ব_০২
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
------------------------------------
ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ সেই খাটিয়ার দিকে এগিয়ে যায়।
কালো কাপড়ে মোড়ানো খাটিয়ার ভিতর থেকে সিদ্দিক কবিরাজ কিছু শব্দ শুনতে পাচ্ছে। শব্দটা এমন,মুখের মধ্যে কেও পানি রেখে যদি মুখেই নিশ্বাস নেয়। ঠিক তেমন একটা শব্দ। এমন ঘড়ঘড় শব্দে কবিরাজ একটা আয়াত পড়ে সেই খাটিয়ার পর্দা সরিয়ে নেয়। এরপর দেখতে পায়,কাফনের কাপড় মোড়ানো লাশটার মুখে লাল রক্ত জমে আছে। এবং লাশটা নিশ্বাস নিচ্ছে। সিদ্দিক কবিরাজ বলতে লাগলো," আমরা আপনাদের ক্ষতি করতে আসিনি। এই লাশের জানাযা পড়ে কবর দিবো। আমাদের সাহায্য করুন"। কথাটা বলে সিদ্দিক কবিরাজ পিছনে আসে। রমিজ মিয়া সহ সব পুরুষকে বলে," সবাই অজু করে আসুন। উনার জানাযা শেষ করে ফজরের নামাজ আদায় করতে হবে"। সিদ্দিক কবিরাজের কথামতো সবাই অজু সেরে আসেন। নিয়ম মতো সিদ্দিক কবিরাজ জানাযাও শেষ করলেন। জানাযা শেষ করতে না করতে চারপাশে শুরু হয় ফজরের আযান। ইমাম সাহেব বললেন," আযান দিয়ে আসি। এরপর লাশের দাফন করা যাবে"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে সিদ্দিক কবিরাজ বললেন," আমিও সেটাই ভাবছি। আগে নামাজ"। কথানুযায়ী সবাই মসজিদের যায়। ইমাম সাহেব আযান দেয়,আর বাকিরা সুন্নত সালাত আদায় করে নিচ্ছে। ইমাম সাহেব নিজেও সুন্নত সালাত আদায় করে যখন বের হলেন,দেখলেন খাটিয়া নেই।
ইমাম সাহেব পেয়ে যান ভয়। সিদ্দিক কবিরাজও কিছু বুঝতে পারেনা। রমিজ মিয়া বলল," লাশ কোথায় গেলো। এখানেই তো ছিলো"। রমিজ মিয়ার কথায় সিদ্দিক কবিরাজ বললেন," হয়তো জ্বীনরা নিয়ে গেছে। জানাযা তো হয়েই গেলো। তারাই হয়তো দাফন করে দিবে। আসুন,আমরা ফজরের নামাজ শেষ করি।
১২ দিন পর......
এই ঘটনা পুরো এলাকায় বেশ প্রচলিত হয়ে যায়। যেমন একটা জ্বীনের লাশ আসা,খাটিয়াতে মসজিদের সামনে থাকা। সিদ্দিক কবিরাজ জানাযা পড়া,এরপর খাটিয়া গায়েব হয়ে যাওয়া। যদিও এই ঘটনা তেমন প্রকাশ পেতো না। এসব নিয়ে আলোচনা করা ভালো নয়। ঐজে? মহিলা টিম ছিলো। ওরা তো সব দেখেছে। মহিলাদের পেটে কথা হজম তো কোনো যুগেই হয়নি। এই যুগে হবে কিভাবে। উনারা আত্মীয়দের কল দিয়েও বলে," ভাবিইই,জানেন কি হইছে?"। এরপর হিস্ট্রি বলা শুরু। এইভাবে পাশের বাড়ি, পাশের এলাকা,পাশের অঞ্চল, সবখানেই এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি কেও কেও বলে বেড়ায়," চাচি গো,এই ঘটনা তো আমাদের বাড়িতে হয়েছে"। অর্থাৎ যার মুখেই শুনা যায়,তাদের মুখেই ব্যাতিক্রম বাড়ির নাম শুনা যাচ্ছে। মূল বাড়ির নাম গুজবে গেছে হারিয়ে।
১২ দিন পর যখন চারদিকে রটে যায় এই নিউজ। তখন রমিজ মিয়ার এলাকায় ঘটে আরো একটি দুর্ঘটনা। রমিজ মিয়া সহ এলাকার কিছু লোক দোকানে আড্ডা দিচ্ছিলো। সময়টা বর্ষার। আকাশটা মেঘের ছায়ায় রাতটাকে আরো অন্ধকার করে দেয়। দোকানের আড্ডায় হয়ে যায় রাত। রমিজ মিয়া ঘড়িতে তাকিয়ে দেখে রাত ১১ টা বাজে। গ্রাম অঞ্চলে ১১ টা মানে গভীর রাত। মানুষজন সবাই ঘুমে বিভোর। রাতজাগা যে মানুষগুলা এলাকায় বসবাস করে,শুধু এরাই বুঝে কতটা নিস্তেজ থাকে গ্রামটা রাতে। দোকানদার দোকান বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয়। একই পথে সবাই বাড়ি যাবে। অর্থাৎ দোকানে থাকা লোকজন আর দোকানদার,এরা সবাই পাশাপাশি বাড়ির লোক। দোকানদার দোকান বন্ধ করে যখন বের হয়। রমিজ মিয়া একটা সিগারেট ধরিয়ে যাত্রা আড্ডা শুরু করে। মানে কথাবার্তার ছলে বাড়ি যাওয়া। এই বাজার হচ্ছে একটা লোকালয়ের মাঝেই। কিন্তু রমিজ মিয়ার বাড়ির রাস্তায় যাবার সময়,একটা বিরাট বিলের পাশ দিয়ে যেতে হয়। বিলের ডান পাশে রাস্তা,আর রাস্তার ডান পাশে ঘনজঙ্গল ( গাব গাছ,বটগাছ, বিভিন্ন জঙ্গলমুখি গাছ)। রমিজ মিয়া সহ সবাই যখন সেই রাস্তাটার উপর আসে। তখনি শুরু হয় বৃষ্টি। ওদের মধ্যে থাকা করিম সাহেব বললেন," দৌড়াতে থাকলে তো ভিজে যাবো। একটা গাছের নিচে দাড়াই"। করিমের কথায় সবাই একটা বড় তালগাছের নিচে দাঁড়ায়। বৃষ্টির বেগ বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ। রমিজ মিয়া একবার ভাবছে দৌড়ে চলে যাবে। কিন্তু রাস্তা পাকা না,সম্পুর্ন মাটির রাস্তা। কাঁদা সহ ভিজা মাটিতে পড়ে যাবার সম্ভাবনা বেশি। এখানেও তেমন একটা সমস্যা হচ্ছেনা। অনেকগুলা তালগাছ থাকায় হালকা বৃষ্টির ফোটা আসছে শুধু। দাঁড়িয়ে থাকার অনেক্ষণ পর একজন বলে উঠে," ওগুলা কি? "। ওর কথাটা শুনে সবাই তাকায় বিলের দিকে। এবং স্পষ্ট সবাই দেখতে পায়,অনেকগুলা লোক একসাথে হেটে আসছে। বিলের সারি বেয়ে তারা এগিয়ে আসতেছে।সবার গায়ে সাদা পাঞ্জাবি, এবং তা জ্বলজ্বল করছে। তাদের মুখে মরা মানুষকে কবরে নেওয়ার দোয়াও শুনা যাচ্ছে। এবং বড় কথা,ওদের কাঁধে একটা লাশের খাটিয়া।
রমিজ মিয়া সহ কারো বুঝতে বাকি নেই,এরা কারা। দৌড় দেওয়ারও গতি নেই। বিল থেকে ঐ জ্বীনের দলগুলা রাস্তায় উঠে গেছে প্রায়। সবাই ঝিম মেরে দাঁড়িয়ে তাদের আসা দেখছে। খানিকবাদে রমিজ মিয়া দেখেন,উনার সাথে থাকা সবাই জ্ঞান হারায়। অর্থাৎ সবাই মাটিতে অজ্ঞান হয়ে পড়ে যায়,রমিজ মিয়া ছাড়া। রমিজ মিয়া এতক্ষণ স্বাভাবিক থাকলেও,এইবার আর নিজেকে কন্ট্রোল করতে পারছেন না। হাত পা সব কাঁপছে উনার। এদিকে জ্বীনের দল সোজা চলে আসে রমিজ মিয়ার সামনে। রমিজ মিয়া স্পষ্ট দেখে,ওদের সবার চেহারা কুচকুচে কালো। সারা দেহে সাদা পাঞ্জাবি থাকলেও,চেহারা,হাত,পা সবটাই কুচকুচে কালো। শুধু ওদের চোখ দুইটা সাদা আলোর মতো জ্বলছে। রমিজ মিয়ার রুহটা যেনো বের হবার উপক্রম। তখনি খাটিয়া ধরা একটা জ্বীন সামনে থেকে সরে পিছনের দলে চলে যায়। খাটিয়া ধরা আরেকজন বলল," খাটিয়া ধরুন "। রমিজ মিয়ার হাটু কেঁপে পড়ে যাবার অবস্থা।আর এরা বলছে খাটিয়া ধরতে। উপায়ও নেই। এসব ভাবনার মাঝে সামনের খাটিয়া ধরা লোকটা আবার বলে," আমাদের এই জ্বীন বদ-জ্বীন। ওর দাফন আমরা করতে পারবো না। আপনি আমাদের সাহায্য করুন"। রমিজ মিয়া বুঝেছে,যে উনার সাহায্য করতে হবে। কিন্তু এরা জ্বীন,তাও এমন ভয়ংকর চেহারা। এদের সাহায্য কি করবে,মনের মধ্যেই তো সব ভয়ে খেয়ে ফেলছে।
আচমকা রমিজ মিয়া খেয়াল করে,তার দুইটা পা হাটতে শুরু করে। মানে রমিজ মিয়া নিজে থেকে হাটতে চাচ্ছেনা,নিজে থেকেই দুইটা পা যেনো খাটিয়ার দিকে যাচ্ছে। শেষে উপায় না পেয়ে রমিজ মিয়া পায়ের সাথে তাল মিলাতে থাকে। এইবার অনিচ্ছাসত্ত্বেও যেয়ে খাটিয়া ধরলেন। জ্বীনের দলগুলা আবার বলতে থাকে," আশহাদু আল লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহ্দাহু লা-শারিকালাহু ওয়াশহাদু আন্না মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু"। রমিজ মিয়া বুঝেন,এরা শাহাদাত পাঠ করছে। তাই উনিও কালিমায়ে শাহাদাত উচ্চারণ করতে করতে এগিয়ে যান।
৩ মিনিট পর,,,,,,
রমিজ মিয়া বুঝেন,জ্বীনগুলা ডান পাশের জঙ্গলে ঢুকে যাচ্ছে। যেহেতু রমিজ মিয়া নিজেও খাটিয়া ধরে আছেন,তাই ওরা যেদিকে খাটিয়া নিচ্ছে,রমিজ মিয়াকেও সেদিকে যেতে হচ্ছে । রমিজ মিয়া জঙ্গলের দিকে তাকিয়ে দেখে,ভিতরে যে বড় বড় বটগাছ আছে,সেদিকেই যাচ্ছে এরা। চারপাশে বৃষ্টি পড়ছে ঝিরঝির করে। ব্যাঙ ডাকছে,আকাশে বিজলি চমকাচ্ছে।এই পরিবেশে জ্বীনদের সাথে জঙ্গলে যাচ্ছে রমিজ মিয়া। মনে যদিও ভয় আছে,কিন্তু উপায়ও নেই। হাটতে হাটতে একটা সময় বটগাছের নিচে চলে আসে সবাই। রমিজ মিয়া বুঝে যান,এরা খাটিয়া নামাবে। তাই রমিজ মিয়া নিজেও খাটিয়া নামায়। তখনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক জ্বীন এসে বলে,"...
চলবে......
গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া
#পর্ব_০৩
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
----------------------------------
তখনি তাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় এবং ভয়ানক জ্বীন এসে বলে,"কবর খুঁড়ুন "। রমিজ মিয়া হা করে তাকিয়ে আছে। না আছে কোনো কোদাল, আর না কোনো যন্ত্র। খালি হাতে কবর খুঁড়বে কিভাবে, সেটাই ভাবছে। ভাবনার মাঝে জ্বীনটা গম্ভীর স্বরে আবার বলতে লাগলেন,' বটগাছের নিচে একটা কোদাল রাখা আছে। আপনি শুরু করতে পারেন"। রমিজ মিয়ার কলিজায় যেনো এইবার পানি আসে। বৃষ্টির কারণে শরীর গেছে ভিজে। হাত-পা থরথর করে কাঁপছে ঠান্ডায়। তবুও মনোবল ঠিক রেখে রমিজ মিয়া গেলেন কোদাল হাতে নিতে। নিরিবিলি এই স্থানে সাদা চোখওয়ালা সব জ্বীন তাকিয়ে আছে রমিজ মিয়ার দিকে। তাও এক দৃষ্টিতে। রমিজ মিয়া কোদাল হাতে নিয়ে ওখানেই শুরু করে কবর খননকাজ। কিছুক্ষণ কবর খনন করার পর রমিজ মিয়া বুঝে যান,জ্বীনেরা নামাজ পড়ার জন্য দাড়াচ্ছে। মানে জায়নামাজের সারি বানাচ্ছে। রমিজ মিয়া ভয়ে কাতুর হয়ে মাটি খুঁড়ে যায়। যদিও এটি কল্পনা করাও মারাত্মক। তবুও হচ্ছে রমিজ মিয়ার সাথে এমন। কূল-কিনারা না পেয়ে এটি করতে বাধ্য। কয়েক মুহুর্ত বাদে রমিজ মিয়ার খনন কাজ শেষ হয়। একা একজন লোক কবর বানানো নিশ্চয়ই সহজ কাজ না। কিন্তু পেশায় কৃষক হওয়ায়, রমিজ মিয়ার তেমন গায়ে লাগেনি। মনের জোর আর প্রবল ভয়াতুর মনে তিনি সম্পূর্ণ করেন কবর। এদিকে জ্বীনদের মধ্যে লম্বা জ্বীনটা আবার বললেন," আপনার পিছনে বাশ আর বরই পাতা আছে। সেটি কবরের পাশে এনে রাখুন"। [ এই গল্পের মূল লেখকের পেজের নাম Riaz Raj Official ]
রমিজ মিয়া পিছনে ঘুরে তাকিয়ে দেখে, সত্যিই বাশ কেটে রাখা হয়েছে। একদম সাইজ করা সব। জ্বীনদের কর্মকান্ডে অবাক হবার মত তেমন কিছুও হয়নি। যেহেতু তারা অলৌকিক শক্তির মালিক। এইটুকু তাদের হাতের ছুটকির সমান।
কিন্তু কবর কেন রমিজ মিয়ার হাতে করালেন। এটি রমিজ মিয়া ভেবে পাচ্ছেনা। ভাবতে ভাবতে তিনি বাশের টুকরোগুলা হাতে নিয়ে যে'ই পিছনে তাকাবেন। তখনি জ্বীনদের গুনগুন শব্দ উনার কানে আসে। পুরোপুরি পিছনে তাকিয়ে তিনি দেখেন, জ্বীনরা লাশটাকে কবরে নামিয়ে দিয়েছে। রমিজ মিয়া ভয় তো পাচ্ছে,তার উপর এদের এসব অলৌকিক কর্মকান্ড উনাকে আরো ভয় পাইয়ে দিচ্ছে। চোখের পলকে লাশ কবরে রাখা নিশ্চয়ই সাধারণ বিষয় না। রমিজ মিয়া বাশ নিয়ে কাছে আসার পর সেই জ্বীন আবার বলে,' কবরে নেমে বাশগুলা বসিয়ে দিন"। এই মুহুর্তটা ছিলো রমিজ মিয়ার সবচেয়ে ভয়ংকর অনুভূতি। কবরে একটা লাশ রয়েছে, তাও জ্বীনের লাশ। আশেপাশে যারা আছে, ওরাও জ্বীন। তিনি রয়েছেনও জঙ্গলের ভিতর। সব কিছুর মাঝে আবার নামতে হবে কবরে। তাও লাশের সাথে।রমিজ মিয়ার রুহটা যেনো বের হয়ে যাচ্ছে। হাড়হিম হয়ে পড়ে যাবার কথা এতক্ষণে। কিন্তু জ্ঞান কেনো হারাচ্ছেন না, সেটাও উনার আপসোসে রয়ে যাচ্ছে। এদিকে বৃষ্টির পানিতে মাটি হয়ে যায় নরম কাঁদার মতো। কবরেও বেশ পানি প্রবেশ করে ফেলছে। রমিজ মিয়ার হাতে আর কোনো উপায়ও নেই। উনি কবরে নামার পর,একটা কালো কুচকুচে জ্বীন এসে হেল্প করে। অর্থাৎ বাশ নিয়ে নিয়ে সে রমিজ মিয়ার হাতে দিচ্ছে। আর রমিজ মিয়া সেই বাশ কবরে লাগিয়ে দিচ্ছে।
বাশ লাগানো শেষে রমিজ মিয়াকে জ্বীন বললেন," উঠুন"। রমিজ মিয়া যেনো মৃত্যু গুহা থেকে লাফ মেরে উঠলেন। বাশ লাগানোর সময় রমিজ মিয়ার মনে হচ্ছিলো,এরা তাকে সহ না কবর দিয়ে দেয়। এই ভয়টা নিয়েই তিনি বাশ লাগিয়ে যাচ্ছিলেন। যাইহোক, জ্বীনরা রমিজ মিয়াকে কবর দেয়নি। বাশ লাগিয়ে উঠার পর জ্বীনের সর্দার ( নেতা যিনি) রমিজ মিয়াকে বললেন," আজকের এই ঘটনা যেনো একটা কাকপক্ষীও না জানে। যদি জানান,তবে আপনার অনেক বড় ক্ষতি হয়ে যাবে। আর আপনার সাথে থাকা লোকজন যারা ছিলো, ওরা কেও আসল না। রাস্তা দিয়ে হাটার সময় যখন বৃষ্টি শুরু হয়, তখন তারা হেটে চলে গেছিলো বাসায়। আপনি তালগাছের নিচে একাই ছিলেন। এবং সাথে যাদের দেখেছেন, ওরাও আমাদের জ্বীন ছিলো। ভয় পাবার কিছু হয়নি। কিন্তু আপনি পুরস্কার পাবেন"।
এতটুকু বলে জ্বীনটা চুপ হয়ে যায়। রমিজ মিয়া উনার সাদা সেই চোখের দিকে তাকিয়ে আছে।কথার মাঝে আবার চুপ কেনো হলো, এটি তার অজানা। জ্বীনটা কিছুক্ষণ চুপ থেকে উনার পাঞ্জাবির পকেটে হাত দেয়। এরপর এক মুঠ ডাল ( মশারির ডাল) বের করলেন। রমিজ মিয়া অবাক হয়ে তাকিয়ে আছেন সেদিকে। আগেই বলেছিলাম, জ্বীনদের চোখ জ্বলজ্বল করে জ্বলছিলো। তাই কিছুটা আলো ছড়াচ্ছে এই অন্ধকারেও। জ্বীনটা সেই ডাল রমিজ মিয়াকে নিতে বলে। রমিজ মিয়া দুই হাত উঠিয়ে সেই ডাল নিজের হাতে নেয়। জ্বীন বলে," এই ডাল আপনি আপনার ফসলে সারের মতো প্রয়োগ করবেন।তবে ধান গাছেই করবেন। অন্য ফসলে না। এরপর দেখতে পাবেন আপনার পুরস্কার "। কথাগুলা বলে জ্বীনটা আবার চুপ হয়। রমিজ মিয়া উনাকে সালাম দিয়ে বলে," তাহলে এইবার আমি বাড়ি যাই?"। জ্বীন মাথা নাড়িয়ে যাবার অনুমতি দেয়।
ডালগুলা শার্টের পকেটে রেখে, রমিজ মিয়া কোনোভাবে জঙ্গল থেকে বের হয়। এরপর পকেট চেপে ধরে এমন জোরে এক দৌড় লাগায়। এমন দৌড় হয়তো তিনি জীবনের প্রথম দিচ্ছেন। পিচ্ছিল মাটি আর কাঁদার কথা উনার মাথাতেই নেই। উদ্দেশ্য বাড়ি যাওয়া।
পরেরদিন সকাল.....
রমিজ মিয়ার গায়ে অনেক জ্বর। উনার স্ত্রী সেবাযত্ন করে যাচ্ছিলেন। রমিজ মিয়ার বন্ধুরা এসে জিজ্ঞেস করলে,উনার স্ত্রী বলে," ভোর রাতে পাগলের মতো কোথা থেকে যেনো ছুটে এলো। এরপর ভেজা শরীর নিয়ে রুমে যায়, আর কাপড় বদলায়। তারপর আমাকে কিছু বলতে এসে জ্ঞান হারায়। এখন দেখি গায়ে জ্বর প্রচুর। কথা বলতে পারছেন না"। সেদিনের পর রমিজ মিয়া প্রায় ৩ দিন অসুস্থ ছিলেন। ৩ দিন পর সুস্থ হয়ে, উনি স্ত্রীকে না বলে বের হয় ঘর থেকে। বুঝতেই পারছেন,সেই ডাল নিয়ে বের হয়েছে। ডালগুলা নিয়ে উনি উনার ফসলের মাঠে যায়।
ক্ষেতের সামনে দাঁড়িয়ে রমিজ মিয়া আল্লাহ্র নাম নিয়ে সব ডাল ফসলে ছুঁড়ে মারলেন। তখনি উনি দেখলেন,সবগুলা ডালের আকার ডাবের মতো হয়ে গেছে। আর প্রত্যেকটা ডাব স্বর্ণের। রমিজ মিয়া এমন দৃশ্য দেখে পুরো হতভাগ। ডাল কিভাবে ডাব হয়,আবার তাও স্বর্ণের। একবার ভাবছে স্বপ্ন দেখছে, আবার ভাবছে জ্বীনদের উপহার। কি করবেন, নাকি করবেন না, পাগল হবেন,নাকি স্বর্ণ নিবেন। ভেবে ভেবে উত্তেজিত হয়ে যাচ্ছে রমিজ মিয়া। এতোগুলা স্বর্ণের গোলা দেখে উনি যেনো এক প্রকার পাগলামি শুরু করেছেন, তাও একা একা। কিছুক্ষণ লাফালাফি করে রমিজ মিয়া ফসল থেকে সবগুলা স্বর্ণের গোলা কুড়িয়ে নেয়। যেহেতু বাড়ির পিছনেই এই ফসল। তাই দেরি করেনি। এক দৌড়ে বাসায় গিয়ে বউকে বলে," তাড়াতাড়ি বস্তাটা নাও। আমরা জমিদার হয়ে গেছি"।
রমিজ মিয়ার কথার "ক"টাও বুঝতে পারলেন না উনার স্ত্রী। কথামতো তিনিও বস্তা নিয়ে আসে। রমিজ মিয়া তার স্ত্রী সহ চলে আসে ফসলের মাঠে। এইবার রমিজ মিয়ার স্ত্রী পাগল হয়ে যাচ্ছে। এতোগুলা স্বর্ণের গোলা। যে কেও বাকরুদ্ধ হয়ে যাবে। রমিজ মিয়া সবগুলা বস্তায় ভরে স্ত্রী সহ ঘরে নিয়ে আসেন। রুমে এসেই রমিজ মিয়ার খুশিতে আর থাকা যাচ্ছেনা।হাসতে হাসতে তিনি বললেন," জ্বীনদের উপহার এতো বড় হবে জানলে সেদিন আরো মন দিয়ে কাজ করতাম। শুধুশুধু ভয় পেয়েছি। এখন থেকে আর আমাদের অভাব থাকবেনা রোকেয়া।আমাদের এই ঘর ভেঙ্গে ইটের ঘর বানামু। জমিদারি করুম রে আমরা"। রমিজ মিয়ার পাগলামি যেনো বেড়েই চলছে। এদিকে রোকেয়া এসে বলে," আস্তে আস্তে,কেও জেনে গেলে সমস্যা আছে। কিন্তু জ্বীনরা কেনো তোমাকে এসব দিলো"। রমিজ মিয়াও তার স্ত্রীকে সেদিন রাতের সবটা বলে। এরপর দুজন মিলে কিছুক্ষণ আনন্দে মেতে উঠে ( বিছানায়)।
১ মাস পর...
রমিজ মিয়ার বাড়ির কাজ চলছে। স্বর্ণ ভেঙ্গে ভেঙ্গে বিক্রি শুরু করেছেন তিনি। অনেক বড় একটা জায়গা কিনে, সেখানেই এই বাড়ি। এদিকে কৃষক থেকে হয়ে যান ব্যাবসায়ী। গায়ে দামি দামি জামা পড়তেও দেরি করেনি। রমিজ মিয়ার যেনো কপাল খুলে গেছে। কিন্তু ঐজে? কথায় আছে। মাত্রাধিক সুখ কান্নার কারণ হতে দেরি হয়না। আরাম আয়েসে দিন কাটানোর মধ্যে রমিজ মিয়ার জীবনে নেমে আসে কালো অধ্যায়। উনি ঘুমাচ্ছিলেন। রাত প্রায় ১২ টা হবে। ঘুমের মাঝে রমিজ মিয়া দেখলেন, একটা কালো কুচকুচে অবয়ব তাকে ডাকছে। চারপাশে কালো অন্ধকার। অন্ধকারের মাঝে এই কালো লোকটাকে তবুও বুঝা যাচ্ছে। সে কি যেনো বলতে চাচ্ছে। রমিজ মিয়া ঘুমের মধ্যেই ভয়ে কাঁপতে থাকে। স্বপ্নে দেখেন, কালো অবয়টাকে কেও আচমকা টেনে নিয়ে গেছে। এবং তৎক্ষণাৎ কেও বলে উঠে," তোকে বলেছিলাম। কাওকে বলিস না এই রাতের ব্যাপারে। এখন আর তাকে আটকানো যাবেনা। তোকে বলিদান দিতে হবে।
অনেক বড় বলিদান দিতে হবে"।
এতটুকু দেখে এক লাফে উঠে বসেন রমিজ মিয়া।
সারা গায়ে ঘাম।
থরথর করে কাঁপছেন উনি।
চলবে......
গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া
#পর্ব_০৪
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
------------------------------------
কেও বলে উঠে," তোকে বলেছিলাম। কাওকে বলিস না এই রাতের ব্যাপারে। এখন আর তাকে আটকানো যাবেনা। তোকে বলিদান দিতে হবে।
অনেক বড় বলিদান দিতে হবে"।
এতটুকু দেখে এক লাফে উঠে বসেন রমিজ মিয়া।
সারা গায়ে ঘাম।
থরথর করে কাঁপছেন উনি।
ভোর রাতের আগে এই স্বপ্ন। রমিজ মিয়া বিছানায় বসে হাঁপাতে থাকে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী উঠে যায় ঘুম থেকে। রমিজ মিয়াকে হাঁপাতে দেখে উনার স্ত্রী হয়ে যায় অবাক। এরপর এক গ্লাস পানি এনে দিয়ে রমিজ মিয়াকে খাইয়ে দেয়। রমিজ মিয়া শান্ত হতে হতে চারপাশে ফজরের আযান পড়ে যায়। ফজরের আযান শুনে তিনি তাড়াহুড়ো করে চলে যান মসজিদে।নামাজ আদায় করে রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবের সাথে একটু সাক্ষাৎ করতে চাইলেন। এদিকে ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়াকে বললেন," আমি জানি আপনি কি বলবেন। যখন আপনি মসজিদে আসতেছিলেন। আমি দুয়ারে দাঁড়িয়ে আপনাকেই দেখছিলাম। আপনার পিছন পিছন সে আসছিলো মসজিদে। আপনার সাথে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়েছে। আর আমি যতদূর এই জ্বীনদের জানি।এরা মৃত জ্বীন"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়ার হুশ উড়ে যাবার উপক্রম।জ্বীনরা মৃত হয়েও আবার ফিরে আসে? ব্যাপারটা গা নাড়া দেওয়ার মতো। রমিজ মিয়ার ভাবনা দেখে ইমাম সাহেব কিছুটা আঁচ করে নিয়েছেন। তাই প্রশ্ন করার আগেই ইমাম সাহেব বললেন," আমি জানি আপনি কি ভাবছেন। মানুষের ক্বারিন জ্বীন থাকে।এইটা ইসলামে আছে। কিন্তু জ্বীনদের কোনো ক্বারিন জ্বীন নেই। অভিশাপ্ত জ্বীনরা সহজে মুক্তি পায়না। আপনার পিছনে যে জ্বীন ছিলো। সে অভিশাপ্ত। কিন্তু কেনো নিলো এই জ্বীন আপনার পিছু। সেটি আমাকে জানান।আমার সন্দেহ সঠিক হলে কিছু একটা করা যেতে পারে।বলুন কি করেছেন"। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া আরো একবার থতমত খেয়ে যায়। কারণ এই ঘটনা বলা নিয়েই উনার বিপদ হয়েছিলো। এখন যদি একই ভুল আবার করেন। তবে আবার কি হয়ে যায়। রমিজ মিয়াকে চিন্তিত দেখে ইমাম সাহেব বললেন," তারমানে কাওকে বলা নিয়েই সমস্যা"। রমিজ মিয়া বার বার ইমাম সাহেবের কথায় অবাক হচ্ছেন। না বলার আগেই তিনি কিভাবে বুঝে যান। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়ার চেহারায় তাকিয়ে বলে, " আল্লাহ্র উপর শক্তিশালী কিছু নেই। এই সৃষ্টির স্রষ্টা যিনি,তিনি চাইলেই বিপদ কেটে যাবে। আপনি শুরু থেকে বলুন। বাকিটা আমি দেখতেছি"।
রমিজ মিয়ার মনের মধ্যে একটু সাহস এসেছে। ইমাম সাহেবের কথাও তো মিথ্যে নয়। আল্লাহ্র চেয়ে বেশি কোনো শক্তি নেই এই ভূ-পৃষ্টে। রমিজ মিয়া মনের মধ্যে কিছুটা সাহস সঞ্চার করে।এরপর বলতে শুরু করে সবটা। ইমাম সাহেব এক মনে রমিজ মিয়ার কাছে সেই রাতের ঘটনা শুনে যাচ্ছে। কিভাবে তারা এসেছিলো,কবর কিভাবে খুড়েছিলো সবটা। শেষে স্বর্ণের গোলা পেয়ে উত্তেজিত অবস্থাতে বউকে সবটা বলে দেওয়াটাও বললেন। কিন্তু তখন কিছু না হলেও,আজ রাতেই হলো।স্বপ্নে এতোদিন আসেনি। এসেছে আজ রাতে।এটির ব্যাখ্যাও নেই রমিজ মিয়ার কাছে। ইমাম সাহেব পুরো কথা শুনার পর কিছুক্ষণ ভাবনায় ছিলেন। এরপর ধীর স্বরে বলতে থাকে," আপনার পিছনে সেই জ্বীনরা পড়েনি। যারা আপনাকে পুরষ্কার দিয়েছে। আপনার নিশ্চয়ই সেই রাতের কথা মনে আছে। যে রাতে মসজিদের সামনে একটা জ্বীনের খাটিয়া এসেছিলো। আমি যে ভয় পেয়ে জ্ঞান হারিয়েছি,তা তো জানেন। সিদ্দিক কবিরাজ সেদিনের পর আমাকে অনেক কিছু শিখিয়েছে। এবং এই জ্বীনের খাটিয়ার রহস্যটাও জেনেছি "।
ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। কিছুই বুঝে উঠতে পারছিলেন না। ইমাম সাহেব একটু মুচকি হেসে আবার বললেন," আমি নিজেও কখনো কল্পনা করিনি যে আমি এত কিছু শিখতে পারবো।কিভাবে আপনার চেহারা দেখে সব জেনে যাচ্ছিলাম,তা খেয়াল করেছেন নিশ্চয়ই। ঐ খাটিয়া একটি অভিশাপ্ত খাটিয়া। আর খাটিয়াতে যে লাশ,ওটাও একটা অভিশাপ্ত জ্বীন। যারা আপনাকে পুরস্কার দিয়েছে। তারা জ্বীনও না,মানুষও না। ওরা সেই বদজ্বীনের সত্বা। মানে ওখানে মোট জ্বীন ছিলোই একটা। সেদিন মসজিদের সামনে যদি আমি ভয়ে চিৎকার না দিতাম,আর সিদ্দিক কবিরাজও না আসতো। তাহলে আমাকে দিয়ে ওরা কবর খনন করাতো। আপনার মত সেম কাজ আমাকেও করতে হতো। এবং শেষে আমাকে লোভ দেখিয়ে,পুরস্কারের নামে এই জালে ফাঁসিয়ে দিতো। আল্লাহ্র রহমত সাথে ছিলো তাই আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু আপনি সেই জ্বীনের ফাঁদে পড়ে গেছেন"।
রমিজ মিয়া এইবার প্রচন্ড রকমের ভয় পাচ্ছে। সকালের সূর্য উঁকি মেরেছে, অস্পষ্ট অন্ধকার চারপাশে ছড়িয়ে আছে।হালকা ঠান্ডা শীতল বাতাস বয়ে যাচ্ছে আপন গতিতে। এরই মধ্যে রমিজ মিয়া ঘেমে একাকার। ইমাম সাহেব আবার বলতে লাগলেন," আজ থেকে ৫৬ বছর আগে এই জ্বীন অভিশাপ্ত হয়। ৫৬ বছর থেকে সে বিভিন্ন অঞ্চলে মানুষকে ফাঁদে ফেলে।এরপর তাদের থেকে প্রাণ কেড়ে নেয়। নাওগা জেলাতে ৫ বছর আগে একটা যুবককে টার্গেট করে।( এই গল্পের মূল লেখকের পেজের নাম- Riaz Raj Official) । পরিশেষ সেই যুবক প্রাণ হারায়। ধনী তারা ঠিকি হয়। কিন্তু ভোগ করার জন্য জীবিত থাকেনা। আবার পঞ্চনগড়েও এই সেম ঘটনা ঘটে ৩ বছর আগে। সেখানে এক মহিলা ফাঁদে পড়লেও,জ্বীন মহিলার প্রাণ নেয়নি। নিয়েছে মহিলার স্বামীর। এরকম এই জ্বীনের অনেক ঘটনা প্রচলিত আছে। সে আপনার পরিবারের কাকে বলি দিবে তা তো জানিনা। কিন্তু নিবে। আর আমি আমার সর্বোচ্চ দিয়ে আপনাকে সাহায্য করবো। আল্লাহ্ সহায় থাকলে নিশ্চয়ই বিপদ কেটে যাবে"।
রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। একটা কথা বলার মতোও শক্তি নেই তার। এই ধন-দৌলত দিয়ে কি হবে,যদি উনি বেঁচেই না থাকেন। বা তার স্ত্রীকে যদি নিয়ে যায়।তবেও তার শান্তি কোথায়। ভাবতে ভাবতে রমিজ মিয়ার চোখ ঝাপসা হতে থাকে । ভয় আর ডিপ্রেশন মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। মুখ দিয়ে শুধু বলে," ইমাম সাহেব, বাঁচান আমাদের"। এইটুকু বলে সেখানেই জ্ঞান হারায় রমিজ মিয়া।
চলবে......
গল্প- #জ্বীনের_খাটিয়া
#পর্ব_৫
লেখক- #রিয়াজ_রাজ
-----------------------------------
রমিজ মিয়া হা করে রইলেন। একটা কথা বলার মতোও শক্তি নেই তার। এই ধন-দৌলত দিয়ে কি হবে,যদি উনি বেঁচেই না থাকেন। বা তার স্ত্রীকে যদি নিয়ে যায়।তবেও তার শান্তি কোথায়। ভাবতে ভাবতে রমিজ মিয়ার চোখ ঝাপসা হতে থাকে । ভয় আর ডিপ্রেশন মস্তিষ্কে চাপ সৃষ্টি করে। মুখ দিয়ে শুধু বলে," ইমাম সাহেব, বাঁচান আমাদের"। এইটুকু বলে সেখানেই জ্ঞান হারায় রমিজ মিয়া।
" রমিজ মিয়া। আপনি ঠিক আছেন এখন? শরীর কেমন লাগছে"। কারো এই অস্পষ্ট শব্দে চোখ খোলেন রমিজ মিয়া। দেখতে পান,ইমাম সাহেব উনার পাশে দাঁড়িয়ে আছেন।আর এই মুহুর্তে রমিজ মিয়া নিজের বাসার বিছানায়। রমিজ মিয়া ইমাম সাহেবকে কিছু জিজ্ঞেস করার আগে ইমাম সাহেব জানালেন," মস্তিষ্কে মাত্রাধিক চাপ সৃষ্টি হবার কারণে আপনার এই হাল হয়েছে। তবে আমি ঘর বন্ধ করে দিয়েছি। আর দুইটা তাবিজও দিয়ে গেছি। এই তাবিজ খুলবেন না হাত থেকে। যত কিছুই হয়ে যাক। এটি যাতে হাতে থাকে"। এইটুকু বলে ইমাম সাহেব চলে গেলেন। ইমাম সাহেব যাওয়ার পর রমিজ মিয়া জানতে পারে,ইমাম সাহেব নিজেই রমিজ মিয়াকে বাসায় এনেছিলেন। পানি পড়া ছিটিয়ে দেওয়ার পাশাপাশি পুরো বাসায় কিসব দোয়া পড়ে ফুঁ দিয়ে গেছেন। রমিজ মিয়া একটু শান্ত হয়। রমিজ মিয়ার স্ত্রী এসে রমিজ মিয়াকে জড়িয়ে ধরে। এই বড়লোকির চাপে না তাদের জীবন চলে যায়। যেনো এসব ধন নয়,অভিশাপ।
অভিশাপ নামক এই শব্দটিকে প্রায় ভুলতে শুরু করলেন রমিজ মিয়া ও তার স্ত্রী।হুজুরের তাবিজ দেওয়ার পর প্রায় ৭ মাস কেটে যায়। কোনো অস্বাভাবিক কিছু হয়নি ওদের সাথে। রমিজ মিয়া দোতলা বাড়ি বানিয়ে ফেলেছে। এলাকাতে মোটামুটি নামকরা একজন ব্যক্তি হয়ে যায়। মানুষকে দান - সদকা দিচ্ছে। বলতে গেলে, একটা জমিদারি ভাব চলে আসে উনার মধ্যে।
রাতে রমিজ মিয়া বাহিরের ঝামেলা শেষ করে বাসায় আসলেন। স্ত্রীকে দৌড়ে এসে জড়িয়ে ধরে বললেন, " এইবার এলাকার সবাই আমাকে চেয়ারম্যান বানাতে চায়। আজকের এই দিনটা অনেক খুশি লাগছে আমার। চলো,আজ পুরো রাত বিছানা গরম করি"। রমিজ মিয়ার কথা শুনে উনার স্ত্রী একটু লাজুক হেসে বললেন," বিছানা গরম করতে করতে তো ভাত পুড়ে ফেললেন"।রমিজ মিয়া আচমকা হাসি থামিয়ে ফেললো। রোকেয়া বেগম মুচকি হেসে আবার বললেন," আপনি বাবা হতে চলছেন"।
স্ত্রীর এই নিউজটা শুনে রমিজ মিয়া খুশিতে যেনো গড়াগড়ি খাবে। বউকে কোলে নিয়ে পুরো বাড়ি দৌড় শুরু করে। কাজের মানুষগুলা সবাই বেরিয়ে এসে রমিজ মিয়ার কাহিনী দেখছে।রমিজ মিয়া যখন দেখলেন সবাই উপস্থিত। তখন তিনি চিৎকার দিয়ে বললেন, " সবার জন্য সুখবর রয়েছে। আমি বাবা হতে চলেছি। অনুষ্টানের ব্যবস্তা করো। পুরো গ্রামের মানুষকে খবর দাও"। হুট করে ধনী ব্যাক্তি হলে যা হয় আরকি। রাজা বাদশাদের মত হুকুম দিয়ে পুরো এলাকার মানুষকে নিয়ে আসেন তিনি। ডেকোরেশন আর লাইটিং এনে পুরো বাড়ি সাজান। ডিজে বক্সের তালে তালে এলাকার মুরুব্বিরা সহ সবাই নাচানাচি শুরু করে দিলেন। গরু ৩ টা জবাই করে দিলেন খাওয়ানোর জন্য। এটিকে হাস্যকরও বলা যেতে পারে,আবার বলাও যায়না। মানুষের ব্যক্তি হিসেবে ভিন্ন ইচ্ছে। যার সামর্থ্য নেই,সে ভাবে টাকা হলে পুরো দেশ ঘুরবে। আর যার আছে,সে ২ মিনিট সময় বের করে প্রিয়জনকে সময় দেয়ার সময়টাও বের করতে পারেনা। রমিজ মিয়ার ক্ষেত্রেও সেটি হলো । ইচ্ছে ছিলো ভরপুর,টাকাও এসেছে আচমকা। ধরে রাখে কে।
ভোর ৪ টায় শেষ হয় অনুষ্টান। খাওয়া-দাওয়া করে যে যার বাড়ি চলে যান। রমিজ মিয়া বউকে নিয়ে যান রুমে। এর পরেরটা তো বলতে হবেনা। আমি জানি আপনারা পাকা পেপে।
আযান হবার সাথে সাথে রমিজ মিয়া গোসলে যেয়ে গোসলটা সেরে নিলেন। এরপর চলে গেলেন মসজিদে। নামাজ আদায় করে ভোরে যখন বের হয়। দেখা হয় ইমাম সাহেবের সাথে। ইমাম সাহেব রমিজ মিয়াকে ঐ অনুষ্টানের ব্যাপারে বুঝালেন। যেহেতু এটি হারাম। তাই এইভাবে অনুষ্টান করাতে তিনি নারাজ। ইমাম সাহেবের কথা শুনে রমিজ মিয়াও কিছুটা লজ্জিত হন। তিনি মাথা নিচু করে বললেন," উত্তেজিত হয়ে করে ফেলেছি। আর এমন ভুল করবোনা হুজুর"। ইমাম সাহেব মুচকি হেসে পরে বললেন," যাইহোক, শুভকামনা রইলো। আপনার ঘর এইবার আলোকিত হতে যাচ্ছে"। রমিজ মিয়া একদিকে খুশি হলেও,অন্যদিকে লজ্জাও পাচ্ছিলেন কিছুটা।
ভোরে বাসায় এসে তিনি শুয়ে যান বিছানায়। যেহেতু সারা রাত ঘুমায়নি।তাই চোখের পাতাগুলা আর সায় দিচ্ছিলোনা। একটু তো ঘুম যেতেই হবে। বিছানায় গা হেলিয়ে দিয়ে যখন রমিজ মিয়া ঘুমের ঘোরে চলে গেলেন। তখনি উনার স্বপ্নে সেই কালো কুচকুচে জ্বীনটা এসে গম্ভীর স্বরে বলে,' আমি এই দিনের জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম। আমার খাদ্য আসতেছে। তাকে নিয়ে যাবো। তুই কিছুই করতে পারবিনা"।
এক লাফ মেরে রমিজ মিয়া উঠে যান ঘুম থেকে। সূর্যের আলো প্রখরভাবে রুমে পড়ছে। অর্থাৎ দুপুর হয়ে গেছে। রমিজ মিয়ার সারা গা দিয়ে ঘাম ঝরতে থাকে। স্বপ্নে যা দেখলেন,সেটির কারণ কি হতে পারে? কোন খাদ্যের কথা বলছিলো সে। কোনোভাবে রমিজ মিয়ার বাচ্চার কথা বলা হয়নি তো?। রমিজ মিয়া ভয়ে কাঁপতে শুরু করে দিলেন। সব তো ঠিকি ছিলো। যে অভিশাপের কথা প্রায় ভুলে গিয়েছে। সেই অভিশাপ আবার নেমে এলো। একটা বড় কারণ নিয়ে এলো, অনেক বড় একটি সুখ কেড়ে নিতে এলো।
রমিজ মিয়া তাড়াহুড়ো করে উঠে বের হয়ে যান বাসা থেকে। রওনা করেন ইমাম সাহেবের কাছে। প্রায় ৭ মিনিট অতিক্রম করে রমিজ মিয়া সোজা ইমাম সাহেবের কাছে আসলেন। এবং এই স্বপ্নের ব্যাপারে জানালেন। ইমাম সাহেব কিছুক্ষণ ভাবনা চিন্তা করে বললেন," আপনাদের যে দুইটা তাবিজ দিয়েছিলাম। সেই দুইটা তাবিজ সাবধানে রাখুন। ভুলেও হাত থেকে খুলবেন না। নয়তো বড়সড় কিছু হয়ে যাবে"। রমিজ মিয়া যতটুকু বুঝলেন,এখন হাতে আর কোনো উপায় নেই। এই তাবিজ ছাড়া কোনো গতি নেই পালাবার। যত কিছুই হোক। তাবিজকে সামলে রাখতে হবে।
রমিজ মিয়া চলে আসেন বাড়িতে। স্ত্রীকে সবটা স্পষ্ট না বললেও,তাবিজের ব্যাপারে একটু নাড়া দিয়েছেন। এই তাবিজ যেকোনো কিছুর বিনিময়ে যেনো হাতেই থাকে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী ভেবেছে,হয়তো বাচ্চা নিয়ে রমিজ মিয়ার ভয় তাই এমন বলছে। কিন্তু স্বপ্নে যে আসলেই বাচ্চাকে নিয়ে যাবার ইঙ্গিত দিয়েছে। তা রোকেয়া বেগমের অজানা।
৫ মাস পর.....
যখন রোকেয়া বেগম ৫ মাসের গর্ভবতী। তখন কিছু অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। ফুলা পেট নিয়ে রোকেয়া বেগম ঘুমাচ্ছিলেন।রমিজ মিয়া পাশেই ঘুমাচ্ছেন। রাত আনুমানিক ২ টার দিকে রমিজ মিয়ার ঘুম ভেঙ্গে যায়। কিছু একটা শব্দ উনার কানে এসে স্থগিত হচ্ছিলো। চোখ মেলার পর জানালা দিয়ে আসা চাঁদের আলোতে তিনি দেখেন,রোকেয়া বেগমের পেটে কিছু নড়ছে। রমিজ মিয়া হা করে তাকিয়ে আছে। পেটের মধ্যে যদি বাচ্চা নড়েও,এইভাবে তো স্পষ্ট দেখা যাবার কথা নয়। রমিজ মিয়া আরো একটু খেয়াল করে দেখলেন, ছোট বাচ্চাদের একটা হাত পেটের ভিতর থেকে বেরিয়ে আসতে চাচ্ছে। চামড়া দ্বারা স্পষ্ট হাতটি দেখতে পান রমিজ মিয়া। এদিকে হাতটা ধীরে ধীরে ক্রমাগত প্রেশার দিয়ে যাচ্ছে।^ বিরতি - এই গল্পের মূল লেখকের পেজের নাম- Riaz Raj Official। অন্যরা সব কপিবাজ^। রমিজ মিয়া রোকেয়া বেগমের পেটে হাত রেখে পেটের ভিতরের হাতটাকে ঠেলতে চাইলে,আচমকা পেটের ভিতর থেকে হাতটা চামড়া ছিঁড়ে বেরিয়ে আসে। রমিজ মিয়া কিছু বুঝে উঠার আগেই,বাচ্চা হাতটি রমিজ মিয়ার হাত ধরে নেয় শক্ত করে। রমিজ মিয়া ভয়ে জোরে এক চিৎকার দিয়ে খাট থেকে পড়ে যান। উনার চিৎকারে রোকেয়া বেগম নিজেও উঠে যায়। রমিজ মিয়া ফ্লোরে বসে চিৎকার মেরেই যাচ্ছিলেন। রোকেয়া বেগম রুমের লাইট অন করে, রমিজ মিয়াকে শান্ত করে যাচ্ছেন।
রমিজ মিয়া সেদিনও তার স্ত্রীকে কিছু বলেনি। কারণ পরবর্তীতে রোকেয়া বেগমের পেট স্বাভাবিক ছিলো। না ছিলো কোনো ছেঁড়া চামড়া। আর নেই কোনো হাতের ইশারা। পুরোপুরি স্বাভাবিক। রোকেয়া বেগম ভয়ে যদি মানসিকভাবে ভেঙ্গে পড়ে। সেই ভয়ে কিছু জানালেন না তিনি। শুধুই একটা বাজে স্বপ্ন বলে আবার শুয়ে পড়েছিলেন।
কিন্তু সেদিন থেকে রমিজ মিয়ার সাথে অনেক কিছুই ঘটে যায়।মাঝরাতে রুমে কোনো বাচ্চার কান্নার শব্দ স্পষ্ট শুনেন তিনি। কখনো কখনো একটা ১ বছরের বাচ্চাকে রুমের কোনায় দেখা যায়। তবে স্বাভাবিক বাচ্চা নয়। গভীর রাতে কালো কুচকুচে একটি বাচ্চা আসে। রুমের কোনায় কোনায় সে দৌড়াদৌড়ি করে। রমিজ মিয়া সব দেখলেও,আবার চোখ বন্ধ করে নেয়। অর্থাৎ না দেখার ভান। কারণ হাতে তাবিজ আছে। আর ইমাম সাহেবের কথা অনুযায়ী, এই তাবিজ থাকা অবস্থায় জ্বীনটা কিছুই করবেনা।
রেগুলার এই ভয়ের মধ্যেও যদি সব সীমাবদ্ধ থাকতো। তও হয়তো ঠিক ছিলো। রমিজ মিয়া যখন ভাত খেয়ে বসেন।তখন স্পষ্ট দেখতে পান,ভাতের মধ্যে কিছু বিচ্ছু( পোকা) হাটাচলা করছে। ভাতে এমন বিচ্ছু দেখে উনি চিৎকার মারলে,সবাই দৌড়ে আসেন। এবং জানতে চান কি হয়েছে। রমিজ মিয়া সবার চেহারা দেখে এইটুকু বুঝে যান যে,ভাতে উনি যা দেখছেন।এইটা কেও দেখছেনা। রমিজ মিয়া খাবার রেখে তৎক্ষণাৎ উঠে যায়।
রাতে যখন বাথররুমে যায় ফ্রেশ হবার জন্য। তখন রমিজ মিয়া দেখেন, বাথরুমের ফ্লোরে অনেকগুলা সাপ দৌড়াদৌড়ি করছে। ভয়ে রমিজ মিয়া সেখানেই দরজা বন্ধ করে দেয়। দিন দিন সেই জ্বীনের অত্যাচার বেড়েই যাচ্ছিলো।
এইভাবে কেটে যায় ৯ মাস ২৮ দিন।
৯ মাস ২৮ দিনের দিন চলে আসে,সেই দিনটা। যে দিনটার জন্য সবাই আগ্রহভরে অপেক্ষা করছে। রমিজ মিয়ার স্ত্রী'কে নিয়ে যাওয়া হয় হসপিটালে। আজ উনার বাচ্চা ডেলিভারি করার দিন। কিন্তু রমিজ মিয়া আছেন বেশ চিন্তায়। এই বাচ্চা কি কোনো অস্বাভাবিক বাচ্চার মত হবে? নাকি সেই জ্বীনের কোনো প্রভাবে বাচ্চা নষ্ট হয়ে যাবে। জ্বীনটা কি বাচ্চাকে নিয়েই যাবে? ভাবতেই গায়ের লোম দাঁড়ায় রমিজ মিয়ার।
চলবে......
0 মন্তব্যসমূহ